অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এমবোলোর সেই লাল কার্ডের নেপথ্যে যে নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত



৭২ মিনিটে ম্যাচে তখন দাপট দেখাচ্ছিল সুইজারল্যান্ড। পাঁচ মিনিট আগে দান এনদোয়ের গোলে সমতায় ফিরেছিল তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের একটা সুযোগও তৈরি হচ্ছিল তাদের সামনে। ঠিক তখনই ঘটে টুর্নামেন্টের অন্যতম বিস্ময়কর এক ঘটনা।

প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করেছেন ব্রিল এমবোলোকে। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো তখন হলুদ কার্ড দেখান আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে।

এরপরই হস্তক্ষেপ করে ডালাসের ভিএআর দল। একাধিক রিপ্লে পর্যালোচনা করে তারা দেখতে পায়, দুজনের মধ্যে আসলে কোনো সংঘর্ষই হয়নি। এমবোলো নিজেই নিজেই মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলটি ছিল গোলপোস্ট থেকে অনেক দূরে, সাইডলাইনের কাছে। তাই এখান থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না। হতে পারে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষ হবে ভেবে আগেভাগেই পড়ে গিয়েছিলেন এমবোলো, কিন্তু বাস্তবে কোনো সংঘর্ষই ঘটেনি। যাই হোক, এটাকে ডাইভ ছাড়া অন্য কিছু বলার সুযোগ নেই।

ভিএআর দল রেফারি পিনেইরোকে ঘটনাটি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেয়। রিপ্লে দেখার সময় স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা আসলে ‘ভুল পরিচয়’ যাচাই করছিলেন। অর্থাৎ ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল কি না, সেটাই ছিল যাচাইয়ের বিষয়।

সাধারণত সমর্থকেরা ধরে নেন, ‘ভুল পরিচয়’ তখনই প্রযোজ্য হয় যখন পারেদেস ছাড়া অন্য কোনো খেলোয়াড়কে ভুলবশত কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু ফিফা এই শব্দবন্ধের অনেক প্রশস্ত ব্যাখ্যা দিয়েছে।

পর্যালোচনার পর পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে নেন রেফারি। বদলে হলুদ কার্ড দেখান এমবোলোকে। প্রথমার্ধেই একবার হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এমবোলো, মজার বিষয় হলো, সেটি এসেছিল পারেদেসকে ফাউল করার কারণে। তাই দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের অর্থ দাঁড়ায় সরাসরি লাল কার্ড।

ফিফার নির্দেশনায় ‘ভুল পরিচয়’ নিয়মটি শুধু একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। নিয়মে বলা আছে, রেফারি কোনো অপরাধের জন্য শাস্তি দিলেও যদি স্পষ্টভাবে ভুল খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করেন, তাহলে শুধু সেই আক্রমণকারীর পরিচয় পুনরায় যাচাই করা যাবে।

এবারের বিশ্বকাপের জন্য চালু হওয়া নতুন নিয়মে ভিএআর যাচাইযোগ্য সিদ্ধান্তের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘ভুল পরিচয়’। এখন কোনো দলের ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলে সেটিও পর্যালোচনা করা যাবে। এই নিয়ম অনুযায়ী নিজের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পাল্টানোর ক্ষেত্রে সঠিক পথেই ছিলেন রেফারি পিনেইরো। তবে মাঠ ছাড়ার সময় ভেঙে পড়েন এমবোলো, সতীর্থদের কাছ থেকে সান্ত্বনা নিতে হয় তাকে।

এই ঘটনার একটা বিদ্রূপাত্মক দিকও আছে। রেফারি যদি প্রথমে পারেদেসকেই হলুদ কার্ড না দেখাতেন, তাহলে শুধুমাত্র এমবোলোর ডাইভের ভিত্তিতে এই ঘটনা পর্যালোচনার সুযোগই তৈরি হতো না। পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু করতেই আগে পারেদেসকে কার্ড দেখানো জরুরি ছিল।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, জানালেন ট্রাম্প

1

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এমবাপ্পেকে টপকে গেলেন মেসি

2

মেসির বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার

3

আমি ফিরে এসেছি মানুষের জন্য’ মির্জা আব্বাসের কান্নাভেজা বক্ত

4

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা দলে ছিল অন্য আবেগ

5

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল পাস

6

সৌদি থেকে বড় জ্বালানি তেল চালান দেশে, সরবরাহে ফিরছে স্বস্তি

7

রান্নার ঝামেলা ছাড়াই ১০ মিনিটে বানিয়ে নিন ৭ পুষ্টিকর খাবার

8

পুলসিরাত পার হয়েও কেন থামতে হবে

9

পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প

10

চট্টগ্রামে সরকারি জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৮

11

পদ্মায় ট্রলারডুবি, ২৩ গরুসহ নিখোঁজ খামারি

12

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

13

সৌদির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে উরুগুয়ের

14

আগামী বছর ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার

15

প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন

16

আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক, বললেন অর্থ

17

কবে অবসর নেবেন রোনালদো, জানালেন নিজেই

18

সংসদে বিরোধী দলকে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে

19

এবার মেসি ম্যাজিকে বশে এল ঘানার সেই তান্ত্রিক, ডাকলেন ‘ভাই’

20