ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:৫২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মাতৃত্বে নারীর মস্তিষ্কে ঘটে বিস্ময়কর পরিবর্তন

মাতৃত্বকে সাধারণত নারীর জীবনের একটি আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এটি শুধু আবেগ নয়—বরং মস্তিষ্ক ও শরীরে ঘটে যাওয়া এক গভীর জৈবিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। বিজ্ঞানীদের মতে, গর্ভাবস্থার সময় নারীর মস্তিষ্কে এমন কিছু স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটে, যা তাকে সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের জন্য স্বাভাবিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি দেয়।

গবেষণায় জানা গেছে, গর্ভধারণের সময় ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিনসহ বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়। এর মধ্যে অক্সিটোসিনকে বলা হয় ‘লাভ হরমোন’, যা মা ও শিশুর মধ্যে গভীর আবেগীয় বন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করে, মানসিক চাপ কমায় এবং শান্ত অনুভূতি বাড়ায়। অন্যদিকে প্রোল্যাকটিন হরমোন মাতৃত্বসুলভ আচরণ এবং শিশুর প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব হরমোন মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে একজন মা সন্তানের কান্না, মুখভঙ্গি ও আবেগ দ্রুত বুঝতে সক্ষম হন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সন্তান জন্মের পর মায়েরা নবজাতকের সংকেত আগে থেকে অনেক ভালোভাবে শনাক্ত করতে পারেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু গর্ভাবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়; সন্তান জন্মের পর অন্তত দুই বছর পর্যন্ত এর প্রভাব মস্তিষ্কে থাকতে পারে। অর্থাৎ মাতৃত্ব নারীর মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক অভিযোজন তৈরি করে। একই ধরনের কিছু পরিবর্তন শিশুর যত্ন নেওয়া বাবা বা অন্য অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা যেতে পারে, যদিও তা তুলনামূলকভাবে কম।

তবে এই সময় অনেক নারী স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার মতো অভিজ্ঞতার কথা জানান। চিকিৎসকদের মতে, হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ঘাটতি এবং নতুন দায়িত্বের চাপ মিলেই এসব পরিস্থিতি তৈরি করে। এ অবস্থায় পরিবার ও সামাজিক সহায়তা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মেডিটেশন এবং মানসিক ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা আরও বলছেন, মাতৃত্বকালীন মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলো বোঝা গেলে প্রসবোত্তর বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার চিকিৎসা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। কিছু ক্ষেত্রে হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেললে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃত্ব আসলে প্রকৃতির এক জটিল ও বিস্ময়কর জৈবিক প্রক্রিয়া, যা নারীর শরীর ও মস্তিষ্ককে সন্তানের সঙ্গে গভীর আবেগীয় বন্ধন গড়ে তুলতে প্রস্তুত করে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধানমন্ডি-৩২ এ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

1

জার্মান গণিতবিদকে পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করতে বলে নেইমারের খো

2

ঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে

3

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা পাই না : এ্যানি

4

আর্জেন্টিনাকে হারতে বাধ্য করা হয়েছিল: আন্দ্রেস ডুকা

5

বিদ্যুৎ বিল কমাতে জানুন কার্যকর উপায়

6

স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি উদযাপনের সময় পেছন ফিরে দাঁড়ানোর কারণ

7

একটা সিংহ কখনো ভেড়ার মতামত কে গুরুত্ব বা পাত্তা দেয় না: ২০১

8

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমছে না

9

সিরাজগঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, তিনজন গ্রেপ্তার—উদ্ধার ৪

10

বিজয় সরণির কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

11

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

12

প্রথমবারের মতো ব্রাজিল-জার্মানি ছাড়াই কোয়ার্টার ফাইনাল

13

বেলিংহামের অটোগ্রাফ না নিলে ঘরে ঢুকতে দিতেন না মেয়ে: শাস্ত্র

14

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু

15

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত

16

হরমুজ প্রণালীতে ২৪০০ নাবিক আটক

17

র‌্যাব আগের মতো থাকছে না, পাল্টে যাচ্ছে নাম

18

যে কারণে নেইমারের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে মাতেন নরওয়ে গোলরক্ষক

19

মার্কিন পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ট্রাম্পের ছবি

20