ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) আশঙ্কা বাড়ায় হবিগঞ্জ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার প্রায় ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিজিবির দাবি, রোববার পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।
সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পুশ ইন প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। এর অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের আয়োজন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করা এবং দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। বিজিবির মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিজিবির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গুইবিল এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতের মাইকিং এবং নিয়মিত টহলের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে। একইভাবে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দারাও মনে করছেন, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পুশ ইন বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়িতে (বিওপি) নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ ইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
মন্তব্য করুন