টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাটি খননের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় দুই বাক্সে ১২টি রকেট লঞ্চারসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাক্স দুটির গায়ে পিতলের প্লেটে ইংরেজিতে ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ টাঙ্গাইল’ লেখা রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রকৃতপক্ষে রকেট লঞ্চার কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে উপজেলার কচুয়া থলচালা গ্রামের টুঙ্গীর চালা এলাকায় বস্তুগুলো পাওয়া যায়। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে টুঙ্গীর চালা এলাকায় লিয়াকত আলীর জমিতে মাটি কাটছিলেন বর্গাচাষি আছরব আলী ও তাঁর ছেলে শাকিল। এ সময় কোদালের আঘাতে মাটির নিচে থাকা একটি লোহার বাক্সের অংশবিশেষ বেরিয়ে আসে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় এক সাংবাদিককে জানানো হয়। ওই সাংবাদিক থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাক্স দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রজত জানান, প্রতিটি বাক্সে ছয়টি করে মোট ১২টি বস্তু রয়েছে। প্রতিটি বস্তুর পেছনে ঘূর্ণায়মান পাখার মতো অংশ দেখা যায়।
এ কারণে স্থানীয়দের ধারণা, এগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত রকেট লঞ্চার হতে পারে। তবে এ ধারণার পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো আসলে কী, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাক্সের গায়ে লেখা দেখে এগুলো পাকিস্তান আমলের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বস্তুগুলো পুরোনো ও জং ধরা গোলাবারুদসদৃশ। আপাতত সেগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বস্তুগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও ব্যবহার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন