সৌদি প্রো লিগে আল খোলুদের বিপক্ষে আল নাসরের ৫-৩ গোলের জয়ে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তিন গোলের এই পারফরম্যান্সে ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। কয়েকজন সাংবাদিকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৮৫।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আল আউয়াল পার্কে সৌদি প্রো লিগের ১২তম রাউন্ডের ম্যাচটি ছিল ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ পুরস্কার পাওয়ার পর রোনালদোর প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচের ৬৬ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে গোল করে আল নাসরকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন রোনালদো। ছয় মিনিট পর একই সতীর্থের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর ৮১ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
এই হ্যাটট্রিকের পর তাঁর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৮৫ হয়েছে বলে দাবি করছেন কয়েকজন সাংবাদিক। তবে সৌদি প্রো লিগের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে গোলের হিসাব এখনো ভিন্ন।
গোলসংখ্যা নিয়ে বিতর্কের সূত্র ২৩ অক্টোবর আল ফয়সালির বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলের জয়। ওই ম্যাচে জোয়াও ফেলিক্সের ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেছিলেন রোনালদো। কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে বলটি আল নাসরের ডিফেন্ডার আন্দ্রেই জিরোত্তোর গায়ে লেগে জালে ঢোকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরে লিগ কর্তৃপক্ষ গোলটি রোনালদোর নামে না দিয়ে আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত করে। ফলে সৌদি প্রো লিগের আনুষ্ঠানিক হিসাবে চলতি মৌসুমে রোনালদোর গোলসংখ্যা সাত।
লিগের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, সাত গোল নিয়ে মাতেও রেতেগুই ও ইউসুফ এন-নেসিরির সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছেন রোনালদো। আট গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিজ্জানি রেইন্ডার্স। আর ১২ গোল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড ইভান টনি।
তবে আল ফয়সালির বিপক্ষে গোলটি রোনালদোর নামে যোগ করা হলে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াবে আটে। সে ক্ষেত্রে রেইন্ডার্সের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবেন তিনি। ইভান টনির সঙ্গে ব্যবধান তখনো পাঁচ গোল থাকবে।
রোনালদো টনির চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছেন। রোনালদোর ম্যাচসংখ্যা ১০, আর টনি খেলেছেন নয়টি ম্যাচ।
আল আহলির হয়ে ইভান টনির একটি গোল নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক রয়েছে। আল খালিজের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ের ম্যাচে হেড থেকে গোল করেছিলেন তিনি। ভিএআরের পর্যালোচনার পর প্রথমে গোলটি টনির নামে দেওয়া হলেও পরে সেটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ফলে সৌদি প্রো লিগের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, টনির গোলসংখ্যা ১২। তবে ওই গোল তাঁর নামে যোগ করা হলে সংখ্যাটি ১৩ হবে।
সৌদি প্রো লিগের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ও ট্রান্সফারমার্কটের মতো পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইটে বিতর্কিত গোল দুটি রোনালদো ও টনির নামে যোগ করা হয়নি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোসহ কয়েকজন সাংবাদিক নিজেদের হিসাবে গোল দুটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
এ কারণে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা ৯৮৫ বলা হলেও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে ভিন্নতা রয়েছে। গোলের মালিকানা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারের এক হাজার গোলের মাইলফলক এবং সৌদি প্রো লিগের গোল্ডেন বুটের দৌড়—দুই ক্ষেত্রেই হিসাবের এই পার্থক্য আলোচনায় থাকবে।
মন্তব্য করুন