অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৯০

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৯০

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নামেন লাখো মানুষ। রাজধানী প্যারিস ও লিওনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এদিন দেশজুড়ে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্যারিসে ছিলেন ৭০ হাজার। তবে আন্দোলনকারী যুব সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। শুধু প্যারিসেই সমবেত হয়েছিলেন ২ লাখ বিক্ষোভকারী।

প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল থেকে সংঘর্ষ

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসে শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল হলেও শেষ পর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তায় থাকা ময়লার পাত্র ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

প্যারিস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ ব্যাপকভাবে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি এতটাই তীব্র ছিল যে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় সংবাদকর্মীদেরও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়।

পুলিশ লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় আরও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ সময় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকর্মীরা সরিয়ে নেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের উদ্দেশে হাত উঁচু করে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কথা জানান।

পুলিশের দিকে পাথর ও দাহ্য বস্তু নিক্ষেপ

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভেঙে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অন্তত একটি দাহ্য বস্তু নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে

আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার জানান, অধিকাংশ বিক্ষোভকারী সহিংসতার বিরোধিতা করলেও সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলো সরকার গুরুত্ব দিয়ে শুনছে না।

তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বারবার রাজপথে নামা মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকের বিশ্বাস, সরকার তাঁদের কথা আর শুনছে না।

অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

নিরাপত্তায় মোতায়েন ৭০ হাজার সদস্য

বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ হ্যালোইন উৎসবের রাতে বিশেষ করে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছিলেন।

শেষ মুহূর্তে আদালতের আইনি লড়াইয়ের পর প্যারিসের প্রধান বিক্ষোভ মিছিলের পথ শহরের পূর্ব প্রান্তে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া শঁজেলিজে এলাকায় অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের চলাচলে রাত ৯টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ

গত মাসে ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তারা আন্দোলনে নামে। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন।

জার্মানি, স্পেন ও ইতালিতেও বিক্ষোভ

ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার জার্মানির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নামেন তরুণেরা। বার্লিনে হাজারো মানুষ সমাবেশ করেন।

অন্যদিকে কোলনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। আয়োজকদের দাবি, দেশটির ৩০টির বেশি শহরে বিক্ষোভে অংশ নিতে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন।

স্পেনের বার্সেলোনায়ও বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে আঞ্চলিক পুলিশ। গত ২৪ অক্টোবরের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এদিকে ইতালির মিলান, তুরিন ও বোলোনিয়া শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমিরাত উপকূলে তেল ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

1

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে কোনো চাপ পড়বে না

2

গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মামা কারাগারে

3

সাইবার হামলার শঙ্কায় বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

4

একই দলে খেলতে পারেন মেসি ও রোনালদো

5

কেইনকে কালো জাদু করতে ওঝা আনল ঘানা

6

চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন

7

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সমালোচনার মুখে কড়া জবাব দিলেন মেসির স্ত্র

8

উৎপাদনে ফিরছে ডিএপি সার কারখানা

9

৯ মে নবীনদের বরণে প্রস্তুত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ব

10

জবিতে ছাত্রলীগের অপতৎপরতার অভিযোগে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

11

বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু

12

ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ সুইডেনের কঠিন পরীক্ষা

13

এক বছরে রোনালদোর আয় ৩৭১০ কোটি টাকা, মেসি-এমবাপের কত?

14

ছেলে-মেয়ে যেন আমার লাশ না ছোঁয়

15

হত্যা মামলার আপিলের রায়ে নুসরাতের মায়ের সন্তোষ প্রকাশ, পরিবা

16

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো: শাস্তি পেলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স

17

প্রিয় দলের হার সহ্য করতে না পেরে ব্রাজিলভক্তের আত্মহত্যা

18

আদ্-দ্বীনের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন

19

শেখ হাসিনার যে দায়, হাসানুল হক ইনুরও একই দায়: চিফ প্রসিকিউটর

20