অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনিদের সাড়ে ৯ হাজার স্থাপনা ভাঙার নোটিশ ইসরাইলের

ফিলিস্তিনিদের সাড়ে ৯ হাজার স্থাপনা ভাঙার নোটিশ ইসরাইলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ৯ হাজার ৫১৮টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা অথবা নির্মাণকাজ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নোটিশের কারণে বহু স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বাড়িঘর ও সম্পত্তি উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর।

১১ বছরে ৯ হাজার ৫১৮টি নোটিশ

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ১৭৪টি নোটিশের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে আরও ৩৪৪টি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব নোটিশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। তাদের নিজস্ব নথি এবং সহযোগী কয়েকটি আইনি ও মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবটি তৈরি করা হয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জেরুজালেম লিগ্যাল এইড অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং সোসাইটি অব সেন্ট আইভস।

হেবরনে সবচেয়ে বেশি উচ্ছেদের নোটিশ

পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া নোটিশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হেবরনে। এলাকাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী—

  • হেবরন: ২ হাজার ৬৯৭টি

  • বেথলেহেম: ১ হাজার ৩১০টি

  • রামাল্লা ও আল-বিরেহ: ১ হাজার ১১৮টি

  • জেরুজালেম: ৯২৯টি

বছরভিত্তিক হিসাবে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৩৩টি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭০১।

প্রায় ১২ হাজার স্থাপনা ধ্বংসের তথ্য জাতিসংঘের

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, একই সময়ে পশ্চিম তীরে প্রায় ১২ হাজার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৮টি স্থাপনা বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল।

ওসিএইচএর হিসাব অনুযায়ী, এসব স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ।

কেন স্থাপনা ভাঙে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ?

ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে পশ্চিম তীরে স্থাপনা ভেঙে থাকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নির্মাণের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকা

  • শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপনা ধ্বংস

  • সামরিক অভিযান চলাকালে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্ছেদের নোটিশ ও স্থাপনা ধ্বংসের কারণে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নতুন বাড়ি নির্মাণ, নাগরিক পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং জীবিকা নির্বাহের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অবৈধ অভিবাসনে জিরো টলারেন্স, বৈধ দক্ষ কর্মী পাঠাতে চায় বাংল

1

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

2

মধ্যরাতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে চুরির চেষ্টা

3

ডিএমপিতে বড় রদবদল : ৫ এডিসিকে বদলি

4

মেসিকে ফাইনালে চান ইয়ামাল

5

ইফ হাসানের ফিফটিতে লড়াইয়ে বাংলাদেশ

6

মার্কিন অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ অপবাদ : উত্তর কোরিয়া

7

হঠাৎ দেশের আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য

8

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঝুঁকি ভাতা ৪ লাখ, চুক্তি ৪২০ হাসপাতালে

9

দক্ষিণ কোরিয়ায় চীন–যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বৈঠক

10

ফ্রান্সের প্রধান কোচ হচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী জিদান

11

আগুন ভেদ করে প্রত্যাবর্তন

12

মেসির দলে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

13

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

14

৫ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা

15

জন্মভূমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে হালান্ড

16

কনুই’ নিয়ে আলোচনা, মরিনিওর চোখে ‘অদ্ভুত’

17

চুক্তি না মানলে আরো ভয়াবহ হামলা শুরু হবে : ট্রাম্প

18

সিরাজগঞ্জে বাসের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোভ্যান

19

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

20