দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকার পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পিইডিপি-৫-সহ একনেকের বৈঠকে মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন ১১টি এবং সংশোধিত দুটি প্রকল্প রয়েছে।
বুধবার বিকেলে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এর আগে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, পিইডিপি-৫-এর আওতায় প্রাথমিক শিক্ষার সব ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, পুরোনো বিদ্যালয় সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জুতা, স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রকল্পের পরামর্শকসহ কয়েকটি খাতের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ এবং কিছু ব্যয় রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে একনেক। এসব পর্যবেক্ষণ যুক্ত করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পিইডিপি-৫-এর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িতব্য এ কর্মসূচির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।
একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং অপারেশনাল যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপনে ব্যয় হবে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালসংলগ্ন পাড় সংরক্ষণ, নালা নির্মাণ ও পুনঃখননের জন্য ৭৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ এবং ২ হাজার ৫৬৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর তৃতীয় সংশোধনীতে ১০ হাজার ৪৭৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসে অফিসারদের আবাসন নির্মাণে ১৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।
গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধিত এ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
মন্তব্য করুন