ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সুদানের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে লাশ সামলানোর লড়াই

সংগৃহীত

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সুদান-এ এখন সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি—মরদেহের সঠিক ব্যবস্থাপনা। রাজধানী খার্তুম-এর একটি অস্থায়ী মর্গে বসে প্রকৌশলী থেকে দাফনকর্মীতে পরিণত হওয়া আলি গেব্বাই নিহতদের দীর্ঘ তালিকা ঘেঁটে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল যেখানে কোনো লাশ খুঁজে পায়, সেখানে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে। এরপর ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা হয়, যেন স্বজনরা এসে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। পরিচয় না মিললে ইসলামি রীতি মেনে গোসল ও কাফন দিয়ে দাফন করা হয়।

গেব্বাই জানান, প্রতিটি মরদেহের ছবি তোলা, ব্যক্তিগত জিনিস খুঁজে দেখা এবং দাফনের স্থান নথিভুক্ত করাই তাদের প্রধান কাজ। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সুযোগও মিলছে না।

যুদ্ধের কারণে শহরের মর্গগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি জানিয়েছে, খার্তুমের চারটি প্রধান মর্গই কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লাশ পড়ে থেকেছে দীর্ঘদিন, পচে গেছে খোলা অবস্থায়।

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রায় ২৮ হাজার লাশ উদ্ধার করে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। তবে এখনো রাজধানীর বড় অংশে এই কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

চলমান সংঘাতে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই চতুর্থ বছরে প্রবেশ করেছে। নিহতের সঠিক সংখ্যা অনিশ্চিত—কেউ বলছেন হাজারে, আবার মানবিক সংস্থাগুলোর মতে তা দুই লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে কিংবা খেলার মাঠেই স্বজনদের দাফন করছে। ফলে খার্তুম শহরটি যেন এক বিশাল খোলা কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর এলাকায় গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একসাথে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে কর্দোফান অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাণহানিই নয়—এই পরিস্থিতি সমাজে গভীর মানসিক আঘাত সৃষ্টি করছে। মর্যাদাপূর্ণ দাফনের সুযোগ না থাকায় মানুষের মধ্যে মৃত্যু নিয়ে এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক কাঠামোর ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, সুদানের এই যুদ্ধ শুধু জীবিতদের নয়, মৃতদের জন্যও এক অবিরাম সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অস্থায়ী নয়, স্থায়ী সমাধান চায় ইরান

1

দেশের পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত

2

প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করলেন মনিরা শারমিন

3

গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে চর্মরোগের দ্রুত বিস্তার

4

বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে কিউই দল

5

দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর

6

ইরান সংঘাতে কমছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার

7

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলো ফ্রান

8

বর্ণবাদী মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে ট্রাম্প

9

বিএনপির ৩৬ প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র বৈধ

10

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের চুক্তির মেয়াদ বা

11

যানজট নিয়ন্ত্রণে ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটে প্রশাসনের বিশেষ পরিক

12

সলামী আন্দোলনে অবসরের সুযোগ নেই: সেলিম উদ্দিন

13

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

14

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না : সিইসি

15

বিতর্কে দুঃখ প্রকাশ করলেন রাশেদ প্রধান

16

রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কে হাইকোর্টের তদন্ত নির্দ

17

আস্থা ভোটে টিকে গেলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

18

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে কাতার-পাকিস্তানের জরুরি

19

মানবজাতিকে বিলুপ্ত করতে যতগুলো পরমাণু বোমা লাগবে

20