দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবশেষে অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ আগ্রহ ও নির্দেশনার ফলে মামলাটির জট ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রী তাকে বার্তার মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। পরবর্তীতে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তাঁকে অবহিত করা হয় এবং এরপর থেকেই তদন্তে নতুন গতি এসেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে মামলার এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ও সমন্বয় করে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটি পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিনজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেলেও এতদিন তা কারও সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। সম্প্রতি আদালতের অনুমতি নিয়ে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
নতুন এই তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রহস্য উদঘাটনের আশা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুতই মামলার প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
মন্তব্য করুন