গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে এবং বিরোধী দল সমালোচনা করবে—এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তবে তিনি বলেছেন, এই সমালোচনা অবশ্যই হতে হবে গঠনমূলক এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে।
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি ও এর তিন অঙ্গসংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা হলে সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক চর্চার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকালের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের নেতারা সভায় বক্তব্য দেবেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের গত দুই থেকে তিন মাসের কার্যক্রম, নেওয়া পদক্ষেপ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সভায় বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল উন্নয়ন কার্যক্রমের মতো উদ্যোগ রয়েছে।
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গত ১৬ বছর ধরে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এই সময়ে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে—শিশু, ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার মতে, গণতন্ত্রের মূল চর্চা হলো সরকার কাজ করবে এবং বিরোধী দল তার গঠনমূলক সমালোচনা করবে।
মন্তব্য করুন