ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১১:১৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ফল রপ্তানিতে ১১ মাসে আয় ১২ কোটি ডলার ছাড়ালো

বাংলাদেশের ফল রপ্তানি খাতে নতুন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ফল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করে দেশ আয় করেছে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। তুলনামূলকভাবে এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশীয় ফলের চাহিদা বাড়ার কারণে গত কয়েক বছরে ফল রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও অন্যান্য মৌসুমি ফল বিদেশি বাজারে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে ফল রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, রপ্তানিমুখী ফল চাষের সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির ফলে এ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। উন্নত উৎপাদন পদ্ধতি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকেও আয় বেড়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮২১ ডলারে পৌঁছেছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে আম এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশীয় আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও উন্নত মানের কারণে পেয়ারা ও কাঁঠালও আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য চাষ সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে ফল রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফল রপ্তানি খাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি মূলত দেশীয় কাঁচামালনির্ভর। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতির উন্নয়ন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইন ভেঙে ভবন নির্মাণ করলে বন্ধ হবে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংয

1

রেফারিকে আঙুল তুলে শাসালেন মেসি, জানা গেল আসল ঘটনা

2

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল

3

ঘুমের ঘাটতিতে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

4

ফেসবুক পোস্টে যেসব অভিযোগ জানালেন আমির হামজা

5

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

6

ধানি জমিতে রঙিন আম চাষে সাফল্য

7

সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার আরও একজন

8

আইপিএল খেলার অনুমতি পেলেন মিচেল স্টার্ক

9

এনসিপি নেত্রী নুসরাতের মনোনয়নপত্র বাছাই ২ মে

10

বিচার দূরে, দায় খোঁজাই শুরু হয়নি

11

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশল

12

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলির ঘটনায় ওবামার নিন্দা

13

২০৩০ বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোকে বাদ দেওয়ার দাবি স্পেনের

14

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি হিজবুল্লাহর

15

উজবেকিস্তানকে হারিয়ে দারুণ শুরু কলম্বিয়ার

16

এবার সরিয়ে দেওয়া হলো গুলশান বিভাগের ডিসিকে

17

লটারিতে সুযোগ পেয়ে একসাথে হজে যাচ্ছেন তিন বোন

18

‘বিশ্বকাপ বিক্রি’র পরিকল্পনা বাতিল, স্বাগত জানিয়ে ফিফাকে সতর

19

মাটি ছেড়ে আকাশে টেসলার রোডস্টার, গাড়ির দুনিয়ায় নতুন চমক

20