পঞ্চগড়ে রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পরাজিত কয়েকজন প্রার্থী। ফলাফল বাতিল করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোট গণনায় অনিয়ম, এজেন্ট উপস্থিত হওয়ার আগেই ভোট গ্রহণ শুরু এবং ব্যালট বাক্স যথাযথভাবে না দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পুনর্গণনার আবেদন করলেও ১৩ দিনেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন পরাজিত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী আব্বাস আলী, সহসভাপতি পদে মই প্রতীকের প্রার্থী হাসান আলী বাবু, সাধারণ সম্পাদক পদে আনারস প্রতীকের প্রার্থী রশিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পদে তালা-চাবি প্রতীকের প্রার্থী ফারুক আলম এবং কার্যকরী সদস্য পদে প্রার্থী মকসেদ আলীসহ ইউনিয়নের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সহসভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী হাসান আলী বাবু অভিযোগ করেন, তাঁর পক্ষে দেওয়া কয়েকটি ব্যালট বাতিল করে তাঁকে তিন ভোটের ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার বাতিল করে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করে পরাজিত দেখানো হয়েছে। আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। নির্বাচন কমিশন কৌশলে আমাকে পরাজিত করেছে।’
ফলাফল ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যালট পুনর্গণনার আবেদন করলেও সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায় বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অবিলম্বে ফলাফল বাতিল করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান হাসান আলী বাবু।
সাধারণ সম্পাদক পদে পরাজিত প্রার্থী রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর এজেন্ট উপস্থিত হওয়ার আগেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছিল। এ ছাড়া ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্স দেখানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এসব কারণে নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়েছে উল্লেখ করে রশিদুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের ফলাফল বাতিল এবং ব্যালট পুনর্গণনার দাবি জানান।
কার্যকরী সদস্য পদে পরাজিত প্রার্থী মকসেদ আলী বলেন, ওই পদে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালটে তিনটি সিল দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো ভোটার একটি বা দুটি সিল দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী এসব ব্যালট বাতিল না করে গণনায় রাখা হয়েছে।
এলোমেলোভাবে ভোট গণনা করে তাঁকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন মকসেদ আলী। তিনি ফলাফল বাতিল করে পুনর্গণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরাজিত প্রার্থীরা এসব অনিয়মের জন্য সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায়কে দায়ী করেন। তবে তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৬ অক্টোবর পঞ্চগড় সদর উপজেলা রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নম্বর–১৪১১) ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের এভারেস্ট প্রি-ক্যাডেট স্কুলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই তা বাতিল করে ভোট পুনর্গণনার জন্য লিখিত আবেদন করেন পরাজিত প্রার্থীরা।
২০২৬ সালের এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ। সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায়, আব্দুল মজিদ ও নুরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ মজিদ সাংবাদিকদের বলেন, পুনর্গণনার আবেদন পাওয়ার পর তিনি সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায়কে আইন অনুযায়ী ব্যালট পুনরায় গণনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে পুনর্গণনা কবে সম্পন্ন হবে বা এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
মন্তব্য করুন